স্টাফ রিপোর্টার: যেদিকে চোখ যায় শুধু আম আর আম। রাজশাহীর বৃহৎ আমের বাজার বানেশ্বর মোকাম এখন সুস্বাদু ক্ষিরসাপাতিসহ নানা জাতের আমে ভরপুর। তবে আমের এমন বিপুল সমারোহেও হাসি নেই বিক্রেতাদের মুখে। তীব্র গরমে সব আম একসঙ্গে পাকায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে; কিন্তু ঈদের ছুটির পর ক্রেতা ও বাইরের চালানি-ব্যাপারীদের আনাগোনা একেবারেই কম। ফলে আমের চমৎকার ফলন ও গুণগত মান ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন স্থানীয় আমচাষি ও বাগান মালিকরা।

জানা গেছে, গত ১৫ মে রাজশাহীতে প্রথম গুটিজাতের আম বাজারে আসে। ২২ মে নামে গোপালভোগ। ঈদের দুদিন পর ৩০ মে বাজারে আসে ক্ষিরসাপাতি (হিমসাগর)।
চাষি ও বাগানিরা বলছেন, রাজশাহীতে নির্ধারিত সময়েই ক্ষিরসাপাতি আম বাজারে এসেছে। তবে অত্যধিক গরম আবহাওয়ার কারণে সব গাছের আম একসঙ্গে পেকেছে। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকার চাষি ও বাগান মালিকরা একসঙ্গে আম তুলেছে বৃহৎ আমের মোকাম বানেশ্বর বাজারে। কিন্তু ঈদের কারণে বিভিন্ন জেলার চালানি-ব্যাপারীরা এখনো তেমন ভিড় করেনি।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মাড়িয়া এলাকার বাগান মালিক খলিলুর রহমান বলেন, গত বছর ক্ষিরসাপাতি আম পাড়ার শুরুতেই মনপ্রতি দাম পেয়েছিলাম ২ হাজার ২শ থেকে ২ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত। এবার আমের গুণগত মান গতবারের চেয়ে অনেক ভালো। তারপরও রোববার বানেশ্বর মোকামে প্রথম চালানের দাম পেয়েছি ১ হাজার ৪শ থেকে ১ হাজার ৬শ টাকা পর্যন্ত।

দুর্গাপুর উপজেলার ঝালুকার আমচাষি নবিউর রহমান নবী সেখ বলেন, সোয়া চার বিঘার বাগান তার। বাগানের সব গাছই ক্ষিরসাপাতি। সোমবার ১৫ মন আম পেড়ে বানেশ্বর মোকামে নেন বিক্রির জন্য। মোকামে পাইকার ও ব্যাপারির উপস্থিতি কম। বহু দরাদরির পর মনপ্রতি ১ হাজার ৬শ টাকা পেয়েছেন। নবিউর সেখ আরও বলেন, একই ধরনের ক্ষিরসাপাতি আম চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট মোকামে প্রতি মন বেচাকেনা হচ্ছে ২ হাজার ১শ থেকে ৩শ টাকা পর্যন্ত। তিনি শুনেছেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চালানি ব্যাপারিরা নাকি সব চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট মোকামে চলে গেছেন আম কিনতে।
মঙ্গলবার দুপুরে বানেশ্বর মোকামে গিয়ে দেখা যায়, আমের বাজার বিস্তৃত হয়েছে পশ্চিম থেকে পূর্বে ১ কিলোমিটার পর্যন্ত। মিনি ট্রাক ট্রলি, হ্যারো, ছোট পিকআপ ও রিকশা ভ্যানে করে চাষিরা দলে দলে আম নিয়ে আসছেন।

সিরাজগঞ্জের ব্যাপারি আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, ঢাকায় ক্ষিরসাপাতি আমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। শহরের বাসিন্দারা একে হিমসাগর বলেন। ঢাকার ৩টি বাজারে আমাদের আম বিক্রির দোকান আছে। কিন্তু ঈদের ছুটি শেষে এখনো সব মানুষ রাজধানীতে ফিরেননি। ৩১ মে ৭ মন ক্ষিরসাপাতি কিনে প্রথম চালান পাঠিয়েছিলান। তার ৩ ভাগের ১ ভাগই এখনো দোকানে রয়ে গেছে। এ কারণে আরও বেশি আম কিনতে সাহস করছি না।
রাজশাহীর বেলপুকুরের বড় জামিরা গ্রামের আমচাষি মনজুর আলম বলেন, ক্ষিরসাপাতি যেদিন প্রথম বাজারে ওঠে সেদিন মনপ্রতি ১ হাজার ৭শ টাকা করে বিক্রি করতে পেরেছিলাম। গত চার দিনে এই আমের দাম প্রথম দিনের চেয়ে মনে ২০০ টাকা করে কমে গেছে। আম কিনতে আসা চালানি ব্যবসায়ী ওসমান মিয়া ও আসিম মিয়ার মতে, গাছপাকা ক্ষিরসাপাতির দাম কমবেশি ঠিকই আছে। তিনি জানান, সারা দেশের ব্যাপারিরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট মোকামে ভিড় করেন। সেখানে আমের আমদানিও বেশি। দরদাম করে ভালো আম কেনার সুযোগ বেশি। তবে রাজশাহীর বানেশ্বরে এবার ক্ষিরসাপাতির দাম কিছুটা কম। বড় সাইজের গাছপাকা আমই পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৭শ টাকা মনদরে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, এবার সব আম একসঙ্গে পাকছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। ফলে বাজারে আমের আমদানিও বেশি। এ কারণে দাম কিছুটা কম হতে পারে।
Leave a Reply